৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। বাংলাদেশে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর প্রচারকার্যের সফলতার এক অমর সাক্ষী। বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস-এর ‘এডুকেশন সিটি’ নামে খ্যাত বাইপাইলস্থ ‘জমঈয়ত ক্যাম্পাসে’ অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন হলো দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলন।
প্রথম দিন সকাল ৯টায় মাননীয় জমঈয়ত সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক (হাফিযাহুল্লা-হ)’র উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমেই অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত। অতঃপর পর্যায়ক্রমে স্বাগত ও উদ্বুদ্ধকরণ ভাষণ। সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জমঈয়তের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ্জ আওলাদ হোসেন-এর পক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান যথাক্রমে সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. দেওয়ান আব্দুর রহীম, প্রফেসর ড. আহমদুল্লাহ ত্রিশালী ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রঈসুদ্দীন। অতঃপর নির্ধারিত বক্তাগণের বিষয়ভিত্তিক আলোচনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অত্যন্ত সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়।
এ মহাসম্মেলনে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জুমু‘আর সালাত। প্রথম দিনের প্রধান অতিথি সৌদি আরব সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আল—আরিফী জুমু‘আর খুতবাহ্ পেশ করেন এবং তাঁর ইমামতিতে অগণিত মুসুল্লী জুমু‘আর সালাত আদায় করেন। সৌদি আরবের প্রাজ্ঞ ও বিজ্ঞ দ্বীনদার আলেমের খুতবাহ্ শ্রবণ ও তাঁর পিছনে সালাত আদায়ের লক্ষ্যে সম্মেলনের বিশাল প্যান্ডেল কানায় কানায় ছাপিয়ে যায়। মৃদ রৌদ্র উপেক্ষা করে প্যান্ডেলের বাহিরেও মুসল্লিগণের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সালাত শেষে প্রদত্ত খুতবার ভাবানুবাদ করেন বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের সেক্রেটারি জেনারেল শাইখ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী। মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির পর শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত সম্মেলনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
দ্বিতীয় দিন (৮ ফেব্রুয়ারি)। সকাল ০৮ : ৩০ মিনিটে সাংগঠনিক অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ দিন বাদ ‘আসর থেকে অতিথি পর্ব শুরু হয়। এ পর্বে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, আমাদেরকে শির্ক-বিদ‘আত মুক্ত এবং তাওহীদ ও সুন্নাহর মর্মমূলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায় আমাদের সকল অর্জন ও সংস্কার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। সবশেষে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক-এর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এবারের সম্মেলনে সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল আরিফী, সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আদ-দুহাইলান, রিলিজিয়াস এটাশে মুবারক বিন আমেক আল আনাযী, মারকায-ই জমঈয়তে আহলে হাদীস পাকিস্তান-এর সভাপতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সিনেটর প্রফেসর সাজেদ মীর এবং সেক্রেটারি জেনারেল ও সিনেটর শাইখ ড. হাফেয আব্দুল কারীম, নায়েবে আমীর শাইখ ড. আবু তুরাব আলী মুহাম্মদ নূর মুহাম্মদ ও শাইখ ড. আব্দুল গফুর রাশেদ, কুয়েতের বর্ষীয়ান আলেমে দীন ও দাঈ‘ শাইখ সালিম বিন সা‘আদ আত-তবীল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশিষ্ট আলেম শাইখ আব্দুর রহমান বিন ইবরাহীম আয যারউনী, পাকিস্তান হরকাতুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ’র সভাপতি হাফেয আল্লামা ইঞ্জিনিয়ার ইবতিসাম ইলাহী যহির, ইন্দোনেশিয়ার মুয়ায বিন জাবাল ইসলামিক এজুকেশন ইন্সটিটিউশন এন্ড সেন্টারের পরিচালক শাইখ জোজন জাইনুল মুরসালিন মাদানী, বাহরাইনের বিশিষ্ট আলেম শাইখ ফাইয হুসাইন আস সালাহ, নেপালের বিশিষ্ট আলেম শাইখ শামীম আহমাদ নদভী প্রমুখ বিশ্বখ্যাত আলেমগণের আগমন ও দলিলভিত্তিক ত্যাজদ্বীপ্ত ভাষণে মুখরিত হয়ে ওঠে সম্মেলনের মাঠ। লাখো কণ্ঠে ঘোষিত হয় তাওহীদের নিনাদ। অতঃপর কুরআন ও সুন্নাহ’র অমীয় সুধা শ্রবণ করে, তা প্রচার ও প্রসারের মহান ব্রত নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত তাওহীদী জনতা আপন গন্তব্যে প্রত্যাবর্তন করেন, ফালিল্লাহিল হাম্দ।
বিগত বছরের সম্মেলনগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ বছরের প্রোগ্রাম ঢেলে সাজানো হয়। জমঈয়তে শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ—এর নিবেদিতপ্রাণ চৌকস জোয়ানেরা শৃঙ্খলার কাজে যে ভূমিকা পালন করেছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা, নির্বাহী পরিষদ ও সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সকল স্তরের দায়িত্বশীল ও কর্মীগণ অমূল্য খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। সকলের খিদমতকে আল্লাহ তা‘আলা কবুল ও উত্তম জাযা দান করুন Ñআমীন।

আপনার মন্তব্য1