সাময়িক প্রসঙ্গ
গণতন্ত্র নয়, গঠনতান্ত্রিক নীতিতেই জমঈয়তের নেতৃত্ব নির্বাচন
শাইখ মুহাম্মাদ হারুন হুসাইন

বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস-এর ১১তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্প্রতি ঢাকার অদূরে বাইপাইলের জমঈয়ত ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক শৃঙ্খলাবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে। সারা দেশের ৫১টি জেলা থেকে আগত মনোনীত কাউন্সিলরবৃন্দ প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেন। এতে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক সভাপতি এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুল ইসলাম সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচন শুধু একটি সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণ নয়, বরং জমঈয়তের দীর্ঘদিনের গঠনতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি আনুগত্য ও শৃঙ্খলার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। কিন্তু কাউন্সিল শেষে কিছু সামাজিক মাধ্যমে এমন অপপ্রচার দেখা গেছে-যেন জমঈয়তের নির্বাচন প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুসরণে সম্পন্ন হয়েছে। এই দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জমঈয়তের নির্বাচন কখনোই সাধারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুকরণে পরিচালিত হয়নি। এটি হয়েছে সংগঠনের নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও শরীয়াহভিত্তিক বিধিবিধান অনুসারে। এখানে ভোটাধিকার ছিল কেবলমাত্র মনোনীত কাউন্সিলরদের-যারা সংগঠনের নীতিনিষ্ঠ, বিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল সদস্য। ইসলামী পরিভাষায় এদের বলা হয় আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ-অর্থাৎ যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্ব বাছাইয়ের যোগ্য প্রতিনিধি। প্রচলিত গণতন্ত্রে প্রার্থী নিজে ভোটে অংশগ্রহণ করে প্রচারণা চালান, নানা উপায়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। অথচ জমঈয়তের নির্বাচনে এমন কোনো প্রার্থিতা, আত্মপ্রচার বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংস্কৃতি ছিল না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে নিরপেক্ষতা, পরামর্শ ও শরীয়াহসম্মত ন্যায্যতার ভিত্তিতে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, যারা সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা অধিকাংশই জমঈয়তের সদস্য নন। তাদের উদ্দেশ্য জমঈয়তের ঐক্য ও নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুপরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে সংগঠনের সৎ, পরিশ্রমী ও সচেতন কাউন্সিলরদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে চাচ্ছে। এরা জানে, ঐক্যবদ্ধ জমঈয়তই হলো আহলে হাদীস আন্দোলনের শক্তি-তাই তারা বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে সেই শক্তিকে দুর্বল করতে চায়। এখানে মনে রাখা জরুরি-গঠনমূলক সমালোচনা আর ভিত্তিহীন অপপ্রচার এক নয়। সমালোচনা সংগঠনকে সংশোধনের সুযোগ দেয়, কিন্তু অপপ্রচার বিভেদ সৃষ্টি করে, আস্থার বন্ধন ভেঙে দেয়। আজ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো ঐক্য, আনুগত্য ও ইতিবাচক মনোভাবের চর্চা। যারা নেতৃত্বে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা শরীয়াহর সীমারেখার ভেতরে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। সুতরাং আমাদের কর্তব্য তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রদর্শন করা এবং দুআ করাÑযেন তারা জমঈয়তকে আরও বেগবান, গতিশীল ও সময়োপযোগীভাবে পরিচালনা করতে পারেন। অপপ্রচারের জবাব কখনো কাঁদা ছোড়াছুড়িতে নয় বরং কর্মে, শৃঙ্খলায় ও নৈতিক দৃঢ়তায় দিতে হয়। জমঈয়তের এই নির্বাচন সেই দৃঢ়তারই প্রমাণ \

 বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস-এর ১১তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্প্রতি ঢাকার অদূরে বাইপাইলের জমঈয়ত ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক শৃঙ্খলাবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে। সারা দেশের ৫১টি জেলা থেকে আগত মনোনীত কাউন্সিলরবৃন্দ প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেন। এতে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক সভাপতি এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুল ইসলাম সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত হন।

এই নির্বাচন শুধু একটি সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণ নয়, বরং জমঈয়তের দীর্ঘদিনের গঠনতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি আনুগত্য ও শৃঙ্খলার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। কিন্তু কাউন্সিল শেষে কিছু সামাজিক মাধ্যমে এমন অপপ্রচার দেখা গেছে-যেন জমঈয়তের নির্বাচন প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুসরণে সম্পন্ন হয়েছে। এই দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

জমঈয়তের নির্বাচন কখনোই সাধারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুকরণে পরিচালিত হয়নি। এটি হয়েছে সংগঠনের নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও শরীয়াহভিত্তিক বিধিবিধান অনুসারে। এখানে ভোটাধিকার ছিল কেবলমাত্র মনোনীত কাউন্সিলরদের-যারা সংগঠনের নীতিনিষ্ঠ, বিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল সদস্য। ইসলামী পরিভাষায় এদের বলা হয় আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদÑঅর্থাৎ যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্ব বাছাইয়ের যোগ্য প্রতিনিধি।

প্রচলিত গণতন্ত্রে প্রার্থী নিজে ভোটে অংশগ্রহণ করে প্রচারণা চালান, নানা উপায়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। অথচ জমঈয়তের নির্বাচনে এমন কোনো প্রার্থিতা, আত্মপ্রচার বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংস্কৃতি ছিল না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে নিরপেক্ষতা, পরামর্শ ও শরীয়াহসম্মত ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, যারা সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা অধিকাংশই জমঈয়তের সদস্য নন। তাদের উদ্দেশ্য জমঈয়তের ঐক্য ও নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুপরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে সংগঠনের সৎ, পরিশ্রমী ও সচেতন কাউন্সিলরদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে চাচ্ছে। এরা জানে, ঐক্যবদ্ধ জমঈয়তই হলো আহলে হাদীস আন্দোলনের শক্তি-তাই তারা বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে সেই শক্তিকে দুর্বল করতে চায়।

এখানে মনে রাখা জরুরি-গঠনমূলক সমালোচনা আর ভিত্তিহীন অপপ্রচার এক নয়। সমালোচনা সংগঠনকে সংশোধনের সুযোগ দেয়, কিন্তু অপপ্রচার বিভেদ সৃষ্টি করে, আস্থার বন্ধন ভেঙে দেয়।

আজ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো ঐক্য, আনুগত্য ও ইতিবাচক মনোভাবের চর্চা। যারা নেতৃত্বে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা শরীয়াহর সীমারেখার ভেতরে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। সুতরাং আমাদের কর্তব্য তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রদর্শন করা এবং দুআ করাÑযেন তারা জমঈয়তকে আরও বেগবান, গতিশীল ও সময়োপযোগীভাবে পরিচালনা করতে পারেন।

অপপ্রচারের জবাব কখনো কাঁদা ছোড়াছুড়িতে নয় বরং কর্মে, শৃঙ্খলায় ও নৈতিক দৃঢ়তায় দিতে হয়।

জমঈয়তের এই নির্বাচন সেই দৃঢ়তারই প্রমাণ 


weeklyarafat


আপনার মন্তব্য1

ঢাকায় সূর্যোদয় : 6:38:16 সূর্যাস্ত : 5:47:13

সাপ্তাহিক আরাফাতকে অনুসরণ করুন

@সাপ্তাহিক আরাফাত